ঐতিহ্য

পুরাণ

পুরাণ

ঐতিহ্য, পুরাণ
পুরাণ দুলাল ভৌমিক পুরাণ : ইতিহাস, আখ্যান-উপাখ্যান, ধর্মীয় বিধিবিধান ইত্যাদি সম্বলিত এক শ্রেণীর মিশ্র সাহিত্য। সাধারণ মানুষের গল্পরস আস্বাদনের আকাঙ্ক্ষা থেকে এর উৎপত্তি। উপনিষদের যুগে উচ্চমার্গের দার্শনিক তত্ত্ব যখন শ্রেণীবিশেষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন গণমানুষের চাহিদা মেটাতে গল্পের ঢঙে সহজ-সরল ভাষায় রচিত হয় প্রধানত কাহিনীমূলক এই পুরাণ সাহিত্য। সাহিত্যরসের সঙ্গে যাতে ধর্মলাভও হয় সেজন্য ধর্মীয় বিষয়াদিও এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পাঁচটি লক্ষণ পুরাণের সাধারণ লক্ষণ পাঁচটি : সর্গ, প্রতিসর্গ, বংশ, মন্বন্তর এবং বংশানুচরিত। এর মধ্য দিয়ে পুরাণের আলোচ্য বিষয়ও প্রতিফলিত হয়েছে। সর্গের আলোচ্য বিষয় সৃষ্টিতত্ত্ব। গল্পচ্ছলে এখানে বিশ্বসৃষ্টির কারণ ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। প্রতিসর্গের বিষয় ধ্বংসের পর নতুন বিশ্বসৃষ্টি। সৃষ্টিমাত্রেরই যেমন ধ্বংস অনিবার্য, তেমনি প্রলয়ের পর নবসৃষ্টিও...
রাষ্ট্র ও ধর্ম

রাষ্ট্র ও ধর্ম

ঐতিহ্য, ধর্ম, রাজনীতি
রাষ্ট্র ও ধর্ম সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এটি ছিল আরো বিস্তৃত ও ব্যাপক। এমন কি ব্রিটিশ শাসকগণ যারা লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না, তারাও এদেশের ধর্মীয় অনুভূতিকে মান্য করতেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র মুসলমানদের বাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা অন্যান্য ধর্মালম্বীদের জীবনযাত্রার উপর হস্তক্ষেপ সমীচীন বিবেচনা করেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বত্রই এদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্মের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যায়। প্রাচীনকালে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মগুরুরা সাধারণত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করত। শাসকগণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও যাজকশ্রেণীকে ভূমি, অর্থ বা সম্পত্তি, বৃত্তি ইত্যাদির মাধ্যমে সাহায্য প্রদানকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করতেন। স্বাভাবিক কারণেই শাসকগণ নিজ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত দেখাতেন...
উপজাতীয় সংস্কৃতি

উপজাতীয় সংস্কৃতি

আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠী, সংস্কৃতি
বাংলাদেশে অনেক উপজাতি রয়েছে এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিও আছে। উপজাতি ভেদে, এমনকি স্থানভেদে একই উপজাতির বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে তাদের সংস্কৃতির পার্থক্য দেখা যায়। তবে কিছু কিছু বিষয় সকল উপজাতির মধ্যেই প্রায় অভিন্ন। যেমন উপজাতিরা সাধারণভাবে সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস করে। আবার কিছু কিছু বিষয় কেবল একেকটি উপজাতির নিজস্ব ব্যাপার। যেমন রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বনে গোপনারীদের যে রাসনৃত্য তা মণিপুরীদের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। উপজাতীয় সংস্কৃতি বসন্তে মণিপুরী, সাঁওতাল এবং ওরাওঁ উপজাতি আবির উৎসব করে হয়। ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়। ওরাওঁ যুবক-যুবতীরা অগ্নিখেলার মধ্য দিয়ে বছরের প্রথম রাতটি উদ্যাপন করে। এসব উৎসবে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে থাকে ঢোল, মাদল, করতাল ও বাঁশি। চাকমা ও তঞ্চংগাদের মধ্যে পালাগান বিশেষ জনপ্রিয় সঙ্গীত। মণিপুরী ও গারোদের মাধ্যে ঋতুভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠান স...
গ্রামীণ স্থাপত্যশিল্প

গ্রামীণ স্থাপত্যশিল্প

ঐতিহ্য
পরিকল্পনা, নির্মাণ উপকরণ এবং অবস্থানের দিক থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গ্রামীণ স্থাপত্যশিল্প নাগরিক স্থাপত্যের মতোই গ্রামীণ স্থাপত্যও সদা পরিবর্তনশীল, তবে বাংলাদেশের গ্রামীণ স্থাপত্য তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বিশেষ করে অল্প কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই স্থাপত্যরীতি ছিল প্রায় অপরিবর্তনীয়। যুগ যুগ ধরে গ্রামীণ স্থাপত্যে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহারের ঐতিহ্য অনুসৃত হয়ে আসছে। গঠন বৈচিত্র্য ও নির্মাণ উপকরণের ব্যবহারে গ্রামীণ স্থাপত্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে কেবল উনিশ শতকের শেষদিক থেকে। গ্রামবাংলার নিজস্ব স্থাপত্য নির্মাণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত, পেশাদার স্থপতিদের কোন ভূমিকা ছিল না। সাধারণত মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি ও কামলাদের মতো স্থানীয় নির্মাণকর্মীরাই বাড়ির লোকদের ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় এসব ইমারত নির্মাণ করতেন। অভিজ্ঞতা দিয়েই নির্মাণ-কৌশল শেখা হতো, আর মৌখিক আলোচনার ভিত্তিতে ...
হস্তশিল্প

হস্তশিল্প

ঐতিহ্য
হাতের তৈরি নানাবিধ পণ্য উৎপাদনের ক্ষুদ্রায়তন ইউনিট হস্তশিল্প গৃহের মালিক নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় বা ১০ জন পর্যন্ত বেতনভুক্ত কর্মচারী নিয়ে যন্ত্র বা যন্ত্রপাতি ছাড়া এসব পণ্য প্রস্ত্তত করে থাকে। কতিপয় হস্তশিল্প পণ্য রয়েছে যেগুলির কিছু অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এসব বৈশিষ্ট্যের উৎস হচ্ছে একটি অঞ্চল বা দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা কারুশিল্পীদের বিশেষ উৎপাদন কৌশল। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প ছিল আদি ও মধ্যযুগীয় বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। হস্তশিল্প হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল বয়ন, ধাতব পদার্থের কাজ, জুয়েলারি, বিশেষ করে রুপার তৈরি অলঙ্কার, কাঠের কাজ, বেত এবং বাঁশের কাজ, মাটি ও মৃৎপাত্র। পরবর্তী সময়ে হস্তশিল্পপণ্য তৈরিতে পাট এবং চামড়া প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হতে থাকে। বাংলাদেশের হস্তশিল্পপণ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য এবং নৈপুণ্য বিদ্যমান। ইতিহাস থেকে জানা যা...
প্রথা ও ঐতিহ্য

প্রথা ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্য
বাংলাদেশের প্রথা ও ঐতিহ্য বিচিত্র এবং আকর্ষণীয়। এর অনেকগুলি এসেছে প্রাগৈতিহাসিক স্তর থেকে। প্রথা ও ঐতিহ্য অনেক প্রথা যুগে যুগে বহন করে নিয়ে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই উপমহাদেশে আগত শত শত আদিবাসী। এসব আদিবাসীরা আজও তাদের সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করছে বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে এবং পাহাড়-পর্বতে। এদের পূর্বপুরুষরা ছিল হয় নেগ্রিটো অথবা প্রোটো-অস্ট্রালয়েড বা প্রোটো-মঙ্গোলয়েড কিংবা ককেশিয়াড। এদের পরে পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে আর্যগণ। বাংলাদেশের বহুজাতিক জনগোষ্ঠী সৃষ্টির পেছনে রয়েছে দেশটির নদীবিধৌত ভূমির উর্বরতা, নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া এবং ধন-সম্পদের দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। এসবের আকর্ষণে এসেছে বহু আদিবাসী, আগ্রাসী ভিনদেশি, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ভাগ্যান্বেষী। বহু জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণে সৃষ্ট বাঙালি জাতির এক প্রধান অংশ ছিল অনার্য। উর্বর জমি এবং খাল-বিল, নদ-নদীর প্রাচুর্যের ফলে কৃষি এবং মৎস্য আহ...
বাঙালি জাতি

বাঙালি জাতি

ইতিহাস, ঐতিহ্য
বাঙালি জাতি বাঙালি জাতি সম্পর্কে নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি মিশ্রিত জাতি এবং এ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিতম মানবগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীর বহু জাতি বাংলায় অনুপ্রবেশ করেছে, অনেকে আবার বেরিয়েও গেছে, তবে পেছনে রেখে গেছে তাদের আগমনের অকাট্য প্রমাণ। বৃহত্তর বাঙালির রক্তে মিশ্রিত আছে বহু এবং বিচিত্র সব নরগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। দীর্ঘকাল বিভিন্ন জন ও কোমে বিভক্ত হয়ে এ আদি মানুষেরা বঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছে, এবং একে অপরের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে শতকের পর শতকব্যাপী। জাতিতাত্ত্বিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর প্রতিটির কোনো না কোনো শাখার আগমন ঘটেছে বাংলায়। নরগোষ্ঠীগুলি হলো নিগ্রীয়, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় ও অষ্ট্রেলীয়। মনে করা হয় যে, বাংলার প্রাচীন জনগুলির মধ্যে অষ্ট্রিক ভাষীরাই সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের সাঁওতাল, বাঁশফোড়, রাজবংশী প্রভৃতি আদি অষ্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সম্পৃক্...