রাজনীতি

রাষ্ট্র ও ধর্ম

রাষ্ট্র ও ধর্ম

ঐতিহ্য, ধর্ম, রাজনীতি
রাষ্ট্র ও ধর্ম সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এটি ছিল আরো বিস্তৃত ও ব্যাপক। এমন কি ব্রিটিশ শাসকগণ যারা লোকদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না, তারাও এদেশের ধর্মীয় অনুভূতিকে মান্য করতেন। পাকিস্তান রাষ্ট্র মুসলমানদের বাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা অন্যান্য ধর্মালম্বীদের জীবনযাত্রার উপর হস্তক্ষেপ সমীচীন বিবেচনা করেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বত্রই এদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্মের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যায়। প্রাচীনকালে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মগুরুরা সাধারণত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করত। শাসকগণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও যাজকশ্রেণীকে ভূমি, অর্থ বা সম্পত্তি, বৃত্তি ইত্যাদির মাধ্যমে সাহায্য প্রদানকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করতেন। স্বাভাবিক কারণেই শাসকগণ নিজ ধর্মের প্রতি পক্ষপাত দেখাতেন...
দেশবিভাগের রাজনীতি

দেশবিভাগের রাজনীতি

রাজনীতি
বাংলাকে ১৯০৫ সালে একবার এবং ১৯৪৭ সালে আরেকবার ভাগ করে। প্রথম বঙ্গভঙ্গ ছয় বছরের মধ্যে বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিভাগটি বাতিল হয়ে যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং তার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে। দুটি বিভাজনই ব্যর্থ হওয়ায় বোঝা যায় যে, বিভাগটা ঐতিহাসিক বিকাশের স্বাভাবিক পরিণতি ছিল না- তা ছিল উপনিবেশিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফল। দেশবিভাগের রাজনীতি প্রথম বঙ্গভঙ্গের উদ্দেশ্য ছিল ভৌগোলিক ও সম্প্রদায়গতভাবে বাঙালিদের বিভক্ত করে উপনিবেশিক নিয়ন্ত্র্রণ বজায় রাখা এবং উপনিবেশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা। কিন্তু এটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। প্রতিবাদের ঝড়ের মুখে ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে তা রদ হয়। বাংলা দ্বিতীয়বার ভাগ হয় ১৯৪৭ সালে বাংলার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহ উত্থানের কারণে। পুর্ব বাংলা হয় পাকিস্তানের পূর্বাংশরূপে এবং ঐতিহাসিক নাম বাংলা মুছে দিয়ে এর নাম...
ছাত্র রাজনীতি

ছাত্র রাজনীতি

রাজনীতি
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ছাত্র রাজনীতি বাংলার রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। বিশ শতকের প্রথম পাদে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পরিগ্রহ করে। তবে এর আগে যে ছাত্র রাজনীতি একেবারেই ছিল না তা বলা যাবে না। পাশ্চাত্য শিক্ষার একটি বৌদ্ধিক প্রতিক্রিয়া হলেও তৎকালীন ইয়ং বেঙ্গল ছিল ছাত্রদেরই একটি আন্দোলন। এটি ছিল মূলত প্রচলিত নিয়মাচারের প্রতি এক ধরনের বিদ্রোহ। কিন্তু ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী সামাজিক ও অন্যান্য ব্যাপারেও আগ্রহী ছিল, যেগুলি পরবর্তীকালে রাজনীতির অংশ হয়ে ওঠে। ছাত্র রাজনীতি উনিশ শতকের সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চারের লক্ষ্যে একটি ছাত্রসংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। একই সময়ে আনন্দমোহন বসু ছাত্রদের রাজনীতিতে যোগদানের আহবান জানান এবং ছাত্রদের রাজনী...