সংস্কৃতি

চৈত্রসংক্রান্তি মেলা

চৈত্রসংক্রান্তি মেলা

মেলা, সংস্কৃতি
চৈত্রসংক্রান্তি মেলা অঞ্জলিকা মুখোপাধ্যায় চৈত্রসংক্রান্তি মেলা : লোকউৎসব বিশেষ। প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব এটি। বাংলা সনের শেষ দিনটিকে বলা হয় সংক্রান্তি। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে এই দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যজনক বলে মনে করা হয়। চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। এর সঙ্গে চলে গাজনের মেলা। কলা-কৌশল গোটা চৈত্রমাস জুড়ে উপবাস, ভিক্ষান্নভোজন প্রভৃতি নিয়ম পালন করার পর সংক্রান্তির দিন সন্ন্যাসীরা বা সাধারণ লোকেরা শূলফোঁড়া, বাণফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে (উঁচু করে পোঁতা কাঠে) ঘোরা, আগুনে হাঁটা প্রভৃতি সব ভয়ঙ্কর ও কষ্টসাধ্য দৈহিক কলা-কৌশল দেখায়। অবশ্য বর্তমানে এ ধরনের খেলা অনেক কমে এসেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দীর্ঘকাল আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বহু স্থানে এ উপলক্ষে মেলা বসে। বাংলাদেশের হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে এই মেলা অনুষ...
ঢালি নৃত্য

ঢালি নৃত্য

নৃত্য, সংস্কৃতি
ঢালি নৃত্য সমবারু চন্দ্র মহন্ত ঢালি নৃত্য : পৌরুষব্যঞ্জক রণনৃত্যবিশেষ। আদিবাসীদের মধ্যে এ নৃত্য বিশেষভাবে প্রচলিত। মধ্যযুগে বাংলার হাড়ি-বাগ্দি-ডোমদের নিয়ে জমিদারদের সৃষ্ট ঢালি যোদ্ধাদের অনুসরণে এ নৃত্যের প্রচলন হয়। আক্রমণ ও প্রতিরোধের ভঙ্গিতে এ নৃত্য হয় উন্মাদনাপূর্ণ। ঢালি নৃত্যে নর্তক ডান হাতে লাঠি, কাঠের তরবারি বা বর্শা এবং বাম হাতে কাঠ, চামড়া বা বেতের তৈরি ঢাল সহযোগে আক্রমণাত্মক ও আত্মরক্ষাত্মক ভঙ্গিতে যুদ্ধাভিনয় করে। নৃত্যকালে ঢালের সাহায্যে প্রতিঘাত প্রতিরোধ এবং তরবারির সাহায্যে বিপক্ষকে আক্রমণের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। একক বা দলবদ্ধভাবে এ নৃত্য পরিবেশন করা যায়। সাধারণত তিনজনের নৃত্য একসঙ্গে হয়ে থাকে। কখনওবা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে দুই দলে এ নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। অনেক সময় মূল ঢালিযোদ্ধা দেহরক্ষী পরিবেষ্টিত থাকেন। ঢালি নৃত্যে বিপক্ষকে আক্রমণের সাহস ও উৎসাহ, আঘাত প্রতিরোধের কৌশল...
উপজাতীয় সংস্কৃতি

উপজাতীয় সংস্কৃতি

আদিবাসী ও নৃগোষ্ঠী, সংস্কৃতি
বাংলাদেশে অনেক উপজাতি রয়েছে এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিও আছে। উপজাতি ভেদে, এমনকি স্থানভেদে একই উপজাতির বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে তাদের সংস্কৃতির পার্থক্য দেখা যায়। তবে কিছু কিছু বিষয় সকল উপজাতির মধ্যেই প্রায় অভিন্ন। যেমন উপজাতিরা সাধারণভাবে সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস করে। আবার কিছু কিছু বিষয় কেবল একেকটি উপজাতির নিজস্ব ব্যাপার। যেমন রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বনে গোপনারীদের যে রাসনৃত্য তা মণিপুরীদের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। উপজাতীয় সংস্কৃতি বসন্তে মণিপুরী, সাঁওতাল এবং ওরাওঁ উপজাতি আবির উৎসব করে হয়। ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়। ওরাওঁ যুবক-যুবতীরা অগ্নিখেলার মধ্য দিয়ে বছরের প্রথম রাতটি উদ্যাপন করে। এসব উৎসবে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে থাকে ঢোল, মাদল, করতাল ও বাঁশি। চাকমা ও তঞ্চংগাদের মধ্যে পালাগান বিশেষ জনপ্রিয় সঙ্গীত। মণিপুরী ও গারোদের মাধ্যে ঋতুভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠান স...
বাঙালি সংস্কৃতি

বাঙালি সংস্কৃতি

সংস্কৃতি
বাঙালি সংস্কৃতি সংস্কৃতি বলতে সাধারণত বোঝানো হয় বিশেষ সমাজের সাহিত্য, সংগীত, ললিত কলা, ক্রিড়া, মানবিকতা, জ্ঞানের উৎকর্ষ ও আরো অনেক শান্তি ও সৌন্দর্যের সমাহার। এর পরও, ব্যাপক দৃষ্টিতে দেখলে সংস্কৃতি হলো মানুষের জ্ঞান, আচার-আচরণ, বিশ্বাস, রীতিনীতি, নীতিবোধ, চিরাচরিত প্রথা, সমষ্টিগত মনোভাব, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্জিত কীর্তিসমূহ। নৃতাত্ত্বিক দিক দিয়ে সংস্কৃতি আবার ভিন্ন ধরনের একটি জটিল ধারণা। যেহেতু সব সংস্কৃতিই উৎস, বিকাশ, মূল্যবোধ এবং সংগঠনের দিক দিয়ে বিশিষ্ট, তাই বাহ্যিক রূপরেখা, তার বিবিধ প্রকাশ এবং নির্যাসে এক সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতি থেকে যথেষ্ঠ পৃথক। হাজার হাজার বছর ধরে নানা নৃতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় গোষ্ঠী ও শাখা-গোষ্ঠী, নানা শ্রেণির মিলন, পারস্পরিক প্রভাব এবং সমন্বয়ের ফলে গড়ে উঠেছে বঙ্গীয় সংস্কৃতি। বহু শতাব্দী ধরে সংস্কৃতির বিভিন্ন, এমনকি, পরস্পর-বিরোধী উপাদানের সহাবস্থা...
সঙ্গীত

সঙ্গীত

ইতিহাস, সংগীত, সংস্কৃতি
সঙ্গীত প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গীতে দুটি ধারা বহমান– মার্গসঙ্গীত ও দেশিসঙ্গীত। বর্তমানে প্রচলিত রাগসঙ্গীত বা উচ্চাঙ্গসঙ্গীত মার্গসঙ্গীতের অনুসারী। মার্গসঙ্গীতে রাগরূপায়ণ ও সুরের ভূমিকাই মুখ্য, কথার আবেদন সেখানে গৌণ। আর দেশিসঙ্গীত কথা ও সুর উভয়কেই প্রাধান্য দিয়েছে এবং তা একরৈখিক (melody) পথে বিবর্তিত ও বিকশিত হয়েছে। বাংলা সঙ্গীত প্রধানত দেশিসঙ্গীতের আদর্শেই রচিত ও বিকশিত। বাংলা ভাষা ও সঙ্গীতের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। আবিষ্কৃত পুথিটির নাম চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়। এটি মূলত প্রাপ্ত ৪৭টি গানের সংকলন। খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে গানগুলি রচিত। বর্তমান কালের বাংলা গানের স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী ও আভোগ এই চার কলির পরিবর্তে সেকালে ছিল উদ্গ্রাহ, মেলাপক, ধ্রুব ও আভোগ। এগুলিকে বলা হতো ধাতু...